আজ - বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪
Bangla Edition

সম্পূর্ণ পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করছে মাত্র একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান।


লেখক: বুলবুল আহমেদ
প্রকাশিত হয়েছে: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

আপনি নিজে শুনলেও অবাক হবেন সারা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করছে একটি মাত্র আর্থিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি আস্তে আস্তে প্রত্যেকটি দেশের ভিতরে ঢুকে অর্থ ইনভেস্ট করার পাশাপাশি দেশটির ক্ষমতা নিজেদের আয়ত্তে নিচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা এতটাই বিস্তৃত যে বিশ্বের ক্ষমতাশীল বিভিন্ন দেশের অর্থের তুলনায় তাদের অর্থ অনেকটাই বেশি।


সম্পূর্ণ পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করছে মাত্র একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

আয়তনের দিক দিয়ে দেখতে গেলে পৃথিবী অনেকটাই বিশাল থেকে বিশালতর। প্রত্যেকটি দেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সরকার ব্যবস্থা গড়ে ওঠে আর সেই সরকার দেশটি পরিচালনা করে থাকে। আমরা সবাই প্রায় জানি যে বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতকে নিয়ন্ত্রণ করছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।


এছাড়াও বিভিন্ন দেশকে নিয়ন্ত্রণ করছেন বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব বা রাজনৈতিক দল। কিন্তু প্রশ্ন যদি আসে পুরো পৃথিবীটাকে কে নিয়ন্ত্রণ করছে? তবে আমাদের অনেকেরই চোখ কপালে উঠে যাবে কারন আমরা এই প্রশ্নের উত্তর সবাই জানিনা। আজকে আমরা এমনই একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি যা শুনলে আপনার চোখ ও কপালে উঠবে এটাই স্বাভাবিক।


আপনি নিজে জেনেও অবাক হবেন যে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এই পুরো দুনিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ জন মানুষ। আমরা অনেকেই মনে করছি কে এই ১০০ থেকে ১৫০ জন মানুষ? কোন রাজনীতিবিদ? কোন প্রশাসনিক দল? কোন আমলা নাকি কোন জঙ্গি সংগঠন। আসলে আপনি এই কথাটি শুনলে অবাক হয়ে যাবেন কারণ এই সারা দুনিয়া এখন নিয়ন্ত্রণ করছে আর কেউ না যুক্তরাষ্ট্রেরই একটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান। এটির নাম হল ব্ল্যাক রক।


অর্থনৈতিক দিক দিয়ে যে প্রতিষ্ঠানের বিশালতা অপ্রতুল। যার সম্পদের কোন সীমা নেই। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৯ ট্রিলিয়ন ডলার পরিমাণ টাকার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে। অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় যদি ব্ল্যাক রক এই প্রতিষ্ঠানটিকে একটি দেশের সাথে তুলনা করা হয়ে থাকে তবে এটি বিশ্বের যে সকল উন্নত অর্থনৈতিক দেশগুলো রয়েছে তাদের মধ্যে চতুর্থতম স্থানে থাকবে। অনেকটা দেখতে গেলে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান এর মত উন্নত দেশগুলোর সমপরিমাণ অর্থের যোগান দিতে পারে এই অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানটি।


অর্থাৎ যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, কানাডা এ সকল দেশ এতটা উন্নত হওয়া সত্বেও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনার দিক থেকে ব্ল্যাক রক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। শুধু এটাই থেমে নেই প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের যে সকল বড় বড় কোম্পানি রয়েছে সে সকল কোম্পানিতে তাদের নিজস্ব শেয়ার রেখেছে।


অ্যাপেল, গুগল, মাইক্রোসফট, ফেইসবুক সহ বিশ্বের যত নামিদামি কোম্পানী রয়েছে সে সকল কোম্পানিতে প্রায় ব্ল্যাক রক তার নিজস্ব শেয়ার রেখেছে বলে জানা গিয়েছে। ব্লাক রক যদি ইচ্ছা করে কোন কাজ না করেই বসে বসে শুধু এ সকল কোম্পানি থেকে শেয়ার নিয়ে তাদের জীবনযাপন করবেন তবে তাদের বাৎসরিক আয় আসবে মোট ০.৫ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক বিবেচনায় অনেক বিশাল থেকে বিশালতর।


একটি তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে ২০২৮ সালের মধ্যে কোম্পানিটি প্রায় ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হবে। আমরা খেয়াল করলে দেখতে পাবো বিশ্বের যে সকল দেশ রয়েছে তাদের কিছু কিছু দেশ এর সরকার দেশ পরিচালনার জন্য এত টাকা খরচ করতে পারে না। তাই এমন প্রতিষ্ঠানের উপর বিভিন্ন দেশের সরকারও নির্ভরশীল হতে বাধ্য হয়ে থাকে।


ব্ল্যাক রকের প্রতিষ্ঠাকাল হল ১৯৮৮ সালে। ল্যারি ফিংক নামের একজন ব্যক্তি ইনভেস্টমেন্ট এর একটি ছোট কোম্পানি খুলেছিল। যা আজ বর্তমান ব্ল্যাক রক নামে সারা বিশ্বে সবার কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সাথে যুক্ত রয়েছে প্রায় ৪৭৫১ টি কোম্পানি। গোপন তথ্যের জানা গিয়েছে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্ভ্রান্তশীল ব্যক্তিত্বদের নিজের আয়ত্তে রাখে এই প্রতিষ্ঠানটি।


এমনকি এরকম বড় বড় লোকজনদের নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসার জন্য ঘুষ পর্যন্ত দিতে বাধা প্রাপ্ত হয় না প্রতিষ্ঠানটি। এতে করে দেশের অথবা নির্দিষ্ট একটি এলাকার বিভিন্ন তথ্য হাতে নাই এই প্রতিষ্ঠানটি এবং এটি এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে সবার সামনে এসেছে। আমরা সাধারণ মানুষ হিসেবে যখন কোন একটি বেশি যুদ্ধ পরিলক্ষিত করি তখন আমাদের মনে স্বাভাবিকভাবে কষ্ট হয়।


কিন্তু কোন একটি দেশের সাথে অন্য একটি দেশের অথবা কোন একটি রাজনৈতিক দলের সাথে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের বিরোধ বা যুদ্ধ শুরু হলে এটি এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রতিষ্ঠানের মঙ্গলজনক হিসেবে ধরে। কারণ যুদ্ধ বিধ্বস্ত এলাকা বা দেশে প্রতিষ্ঠানটি খুব সহজেই হাত বাড়িয়ে দেওয়ার নামে তাদের ইনভেস্টমেন্ট এর কাজ চালিয়ে যায়। যে দেশ যত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই দেশের প্রতিষ্ঠানটি তত তাড়াতাড়ি এবং অনেক বেশি পরিমাণ অর্থ ইনভেস্ট করতে পারে।


আর যত বেশি ইনভেস্টমেন্ট করবে কোম্পানিটি তত বেশি অর্থ হাতিয়ে নিতে পারবে। বর্তমান সময়ে সবার নজরে আসা রাসিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ মূলত সারা বিশ্বে প্রভাব ফেলেছে। এই ইউক্রেনেও এই অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানটি ইনভেস্ট করেছে। শুধু ইউক্রেন না বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই এই প্রতিষ্ঠানটি ঢুকে পড়েছে।


অনেকে দাবী করছে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে ইনভেস্টের পাশাপাশি বড় বড় রাজনৈতিক মাথাদের কিনে নিচ্ছেন। এমন একটি অবস্থায় থেকেও ব্ল্যাক রকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো এতকিছুর পরেও প্রতিষ্ঠানটি কখনো আলোচনায় থাকে না বা আলোচনায় থাকাটা পছন্দ করেনা।


চুপি চুপি সবার অন্তরালে সারা পৃথিবীতে বিস্তার ঘটিয়ে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রতিষ্ঠানটি অনেকটা একটি চক্রের মত কাজ করে আসছে। প্রথমে টাকার মাধ্যমে ইনভেস্টমেন্ট এর কথা বলে যে কোন দেশের ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং পরে দেশটির ক্ষমতাবান ব্যক্তিত্বদের নিজের আওতায় নিয়ে এসে দেশটিতে নিজেদের ক্ষমতা ছড়িয়ে দেয় এবং নিজেদের প্রভাব বিস্তার শুরু করে।

ট্যাগ

ব্ল্যাকরক পলিটিশিয়ান বর্ল্ডপ্যে পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান Blackrock Politician WorldPowe Earth control Financial institution

এই সম্পর্কিত আরও পড়ুন


মন্তব্য