আজ - বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪
Bangla Edition

নওরিন আফরোজ প্রিয়ার নগ্ন ভিডিও ভাইরাল


লেখক: মোঃ শামীম হোসেন
প্রকাশিত হয়েছে: ১৮ অগাস্ট ২০২৩

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত একটি নাম নওরিন আফরোজ প্রিয়া। নওরিন টিকটকের মাধ্যমে পরিচিত হয়েছে। নওরিন আফরোজ প্রিয়া টিকটকে খুবই জনপ্রিয় একজন কন্টেন ক্রিয়েটর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ফলোয়ার সংখ্যা অনেক। এগুলির পাশাপাশি নওরিন একজন ইউটিউবারও।ইউটিউবে তার ৬ লাখেরও বেশি সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। আপনারা জানেন যে নওরিন আফরোজ প্রিয়ার নগ্ন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এটা কি সত্যিই নওরিন ছিল? উত্তর হলো না। ভিডিও তে যে মেয়ে ছিল সে নওরিন না। সেটি ছিল এআই দিয়ে তৈরি একটি ডিপ ফেক ভিডিও। হ্যাঁ ঠিকই পড়েছেন। এটি এআই দিয়ে তৈরি। চলুন ডিপ ফেক ভিডিও বা এআই দিয়ে যা করা হলো সেটি সম্পর্কে জানা যাক।


নওরিন আফরোজ প্রিয়ার নগ্ন ভিডিও ভাইরাল

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে মানুষের যে কোন ছবি থেকে এক ক্লিকে জামাকাপড় খুলে ফেলা যাচ্ছে। তারপর সেই নগ্ন ছবিটা ইন্টারনেটে দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। তাহলে আমি বলব এটা নিয়ে এত আৎকে ওঠার কি আছে? এটা কি এই প্রথমবার হচ্ছে? আর এআই-কে শুধু শুধু দোষ দিয়ে লাভ কি।


আপনাদের কি মনে নেই কিছুদিন আগেও তো ফটোশপ দিয়ে একজনের মুখের সাথে আরেকজনের নগ্ন ছবি লাগিয়ে সেই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হতো এবং সেই ছবিও ভাইরাল হতো। আর সেই ছবিতে যার মুখ থাকতো শরীরটা যারই হোক না কেন মুখটা যার হতো সে কিন্তু সমাজে মুখ দেখাতে লজ্জা পেতো। তাহলে আজকে এত হৈচৈ করার কি আছে


আপনাদের কি মনে আছে যখন ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, যুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন সপ্তাহ পরেই ভলোদিমির জেলেনস্কি এর একটি ভিডিও ভাইরাল হলো যেখানে তিনি বলেছিলেন , ইউক্রেনের সমস্ত সেনারা যেন অস্ত্রশস্ত্র সমর্প করে দেয় এবং সবাই যেন বাড়িতে ফিরে যায়। মূল কথা হলো ইউক্রেন যুদ্ধে হেরে গেছে রাশিয়া জিতে গেছে। পরে জানা গেল সেই ভিডিওটা ফেক ছিল। আপনিও জানতেন, ভলোদিমির জেলেনস্কির সেই ভিডিওটা ছিল ডিপ ফেক ভিডিও অর্থাৎ এআই এর মাধ্যমে ভলোদিমির জেলেনস্কি এর একটা ফেক ভিডিও বানিয়ে সেই ভিডিওতে তার কণ্ঠস্বর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে তৈরি করা হলো এবং সেটা আপলোড করে ছড়িয়ে দেওয়া হল। কিছুই না শুধু ইউক্রেনের সেনাদের আত্ম বল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা। তখন কি আপনি এমন আৎকে উঠেছিলেন? এরকম ডিপ ফেক ভিডিও এর আগে আরো অনেক ছড়িয়েছে। আপনিও হয়তো দেখেছেন বারাক ওবামার ভিডিও, টম ক্রুশের ভিডিও এবং অনেক নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটে আমরা সেসব ভিডিও অনেক ইনজয় করেছি সে সময়। এবার হঠাৎ এত গেল গেল রব কেন?


তার কারণ এতদিন বিপদটা ছিল দূরে। এবার বিপদটা যেন আমাদের ঘরের ভিতরে এসে ঢুকেছে। ফটোশপে যেসব পিকচার এডিট করা হতো সেগুলো অত ফিনিশিং হতো না। একটু ভাল করে দেখলে বোঝা যেত এটা কৃত্রিম ছবি। আর তার থেকেও বড় কথা এসব ছবি তৈরি করার জন্য স্কিল এর প্রয়োজন ছিল । যে কেউ যেকোনো ছবি এক ক্লিকে তৈরি করে দিতে পারত না। যেটা এখন এআইয়ের মাধ্যমে পারে। ডিপ থেকে ভিডিও দেখতাম, কিন্তু কখনো ভাবতে না, এমন ভিডিও আমার হতে পারে বা আমার বাড়ির কোন মহিলার হতে পারে।


এআই-এর মাধ্যমে কণ্ঠস্বর নকল করে মুক্তিপণ আদায়ের গল্প নিশ্চয় শুনেছেন। মেয়ে বাইরে গেছে হঠাৎ বাবাকে ফোন করে বলল যে আমাকে কিছু লোক আটকে রেখেছে মুক্তি পণ চেয়েছে এত টাকা হলে তারা আমাকে ছেড়ে দেবে। বাবা কোন সন্দেহ করার সময়ই পেল না কারণ কন্ঠটা ছিল তার মেয়ের । সুতরাং বাবা অনলাইনে মুক্তি পন বুঝিয়ে দিল। তার একটু পর তার মেয়ে বাসায় এসে হাজির হলো। এবং বলল সে তো অফিসে ছিল এবং তার কোন প্রবলেমই হয়নি। এআই যদি আমাদের বলা কিছু কথা শুনে ফেলে তাহলে আমাদের কথা বলার ধরন আমাদের কণ্ঠস্বর হুবুহু নকল করতে পারছে। অর্থাৎ এখন কিন্তু বিপদ একদিক থেকে না তিন দিক থেকে আসছে। এখন আর একটা ছবিতে অন্য কারো মাথা বসিয়ে এডিট না কর্‌ ওই ছবিটি এক ক্লিকে এমনভাবে এডিট করছে যে, তাকে জামা ছাড়া কেমন দেখতে হবে যেটা প্রকাশ করছে, অনেকটা নিখুঁতভাবে। তাহলে এআই বানানো হলো কেন? কোনো কি অসৎ উদ্দেশ্য ছিল?


আমি বলব না। উদ্দেশ্য ছিল ফ্যাশন ডিজাইনকে নিখুত করার। অনলাইন শপিংয়ের জন্য আমরা যখন অনলাইনে শপিং এ কেনাকাটা করি তখন ওই জামা পড়লে কেমন দেখাবে সেটা জানার আগ্রহ প্রকাশ করি । এবং এআই সেটা অনেকটা নিখুঁতভাবে প্রকাশ করে। সুতরাং আমাদেরকে আর ট্রায়াল করিয়ে দেখতে হতো না যে ওই জামা পড়লে আমাদের কেমন লাগবে। কিন্তু এরপর এটা দিয়ে জামা পড়ানোর বদলে নগ্ন ছবি এডিট করা শুরু করল। চারদিকে অনেক অ্যাপ্লিকেশন আছে, আর টেলিগ্রামে কিছু ফটো পাওয়া যায়। যাদেরকে একটা ছবি দিলে সেটা নগ্ন ছবিতে রূপান্তর করেদেয়।


কি ভাবছেন এটা থেকে বাঁচা সম্ভব কিনা? ভাবছেন এবার থেকে ইন্টারনেটে কোন ধরনের ছবি আপলোডি করবেন না। ইনস্টাগ্রাম ফেসবুকে যেসব ছবি ছিল সেগুলো প্রাইভেট করে রেখে দেবেন? তাহলেই কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? না এটা ভুল ধারণা। আপনি অনলাইনে ছবি যতই প্রাইভেসিতে রাখুন না কেন সেটা কোন না কোন ভাবে স্ক্রিনশট নিয়ে অন্য কোন কায়দায় সে সেটা ব্যবহার করতে পারবে। অথবা এই ডিজিটাল দুনিয়ায় আপনাকে কোথাও না কোথাও ছবি তুলতে যেতে হবে। এমনকি আপনার হাতে থাকা মুঠোফোনটাও আপনার অগোচরে আপনার ফটো তুলতে পারে। তাই একবার যখন এটা এসেছে সমস্যা থাকবেই। কিন্তু এটা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি যদি সরকার একটু কঠোর হয় বা আমরা একটু সচেতন হই।


যেমন, আপনি যদি আপনার কোনো ছবি ইন্টারনেটে মিস ইউজ হচ্ছে বলে মনে হয় তাহলে সেই ছবিটা এবং তার সাথে সেই অরজিনাল ছবিটাও দুইটা ছবি stopncii.org এই ওয়েবসাইটে গিয়ে আপলোড করে দিলে তারা যত রকম সোশ্যাল মিডিয়া আছে সবগুলো থেকে আপনার নগ্ন ছবি রিমুভ করে দেবে। তাতেও কি নিস্তার আছে কারণ ওই ছবি যেসব ফোনে ডাউনলোড করা আছে সেখানে তো চিরকাল থেকেই যাবে। হ্যাঁ সরকার চাইলে আইন আনতে পারে এসব মিস ইউজ বন্ধ করার জন্য। কিন্তু প্রতিটা দেশের সরকার তো আনবে না। তাই যারা চাইবে তারা ভিপিএন ইউজ করে হলেও এসব অ্যাপ্লিকেশন ইউজ করতে পারবে এবং আমার আপনার সবার ছবি সে একই রকম রিস্কের মধ্যেই থাকবে।


অর্থাৎ আমাদেরকে এই বিপদটাকে সাথে নিয়েই চলতে হবে। আগামী দিনে তাই রুখে দাঁড়াতে শিখতে হবে। যখন আপনার এরকম কোন ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল হবে সেটা দেখে কেউ যেন আপনাকে ব্ল্যাকমেইল করতে না পারে কারো সামনে আপনার যেন মাথাটা নিচু না হয়ে যায়। কারণ আপনি তো মনে মনে জানেন এই কাজটি আপনি করেননি। এই নৈতিকতাই একমাত্র আমাদের সহায়ক হতে পারে। সরকার কঠোর হলে এই রকম এআই ব্যবহৃত ওয়েবসাইট restricted হবে, তাহলে এর ব্যবহার একটু হলেও কমবে।


যেকোনো প্রযুক্তি বা যেকোনো নতুন জিনিস আমাদের জন্য ভালো কিছুই বয়ে আনে। কিন্তু এই আমরাই সেটি মাঝে মাঝে কিছু খারাপ কাজে ব্যবহার করি। দোষটা আমাদেরই, দোষটা এআই-এর না। এবং তার সাথে এটাও মনে রাখতে হবে যে কোন টেকনোলজির যে কোন নতুন উদ্ভাবন সেটা মানুষের ভালোর জন্যই। হ্যাঁ তার মিস ইউজ হয়, সেটা ব্যতিক্রম। কিন্তু সেটা খারাপ নয়। পৃথিবীতে খারাপ সব সময় থাকবে ভালোর সাথে ব্যালেন্স করার জন্যই তাকে থাকতে হবে। কিন্তু খারাপের ভয়ে আমাদের গুটিয়ে থাকলে চলবে না। খারাপের ভয়ে আমাদের অগ্রগতিকে থামিয়ে রাখলে চলবে না। ভালো খারাপ সব সময় হাত ধরাধরি হয়েই চলবে আমাদের দায়িত্ব ভালোটাকে জিতিয়ে দেওয়া।

ট্যাগ

প্রযুক্তি

এই সম্পর্কিত আরও পড়ুন


মন্তব্য